দুই ইনিংস মিলিয়ে ৪ উইকেট। ২০০৩ সাল থেকে টানা ২১ বছর টেস্ট খেলেছেন


শামার জোফেসকে আউট ইনিংসে চতুর্থ উইকেট নিলেন অভিষিক্ত গাস অ্যাটকিনসন, ম্যাচে তখন তার ১১ উইকেট হয়ে গেছে। বিশাল হারের পথে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ ব্যাটার জেডন সিলস তখন ক্রিজে। বেন স্টোকস ছুটে গিয়ে আস্তে করে হাসিমুখে কিছু একটা বললেন অ্যাটকিনসনকে। ধারাভাষ্যকারদের দেখে মনে হলো, শেষ উইকেটটা অ্যান্ডারসনের জন্য ছেড়ে দিতে স্টোকস অনুরোধ করছেন। পরের তিনটা বল ঠিকই আলগা করলেন অ্যাটকিনসন, ধারাভাষ্যকারদের অনুমান পরিষ্কার। অ্যান্ডারসন শেষ উইকেট নিয়ে ম্যাচ ও ক্যারিয়ার সমাপ্ত করবেন। মঞ্চ প্রস্তুত, গ্যালারিতে হাজার হাজার করতালির আওয়াজ, হয়েও যাচ্ছিলো। গুডাকেশ মোটি নতুন ওভারে প্রথম বলেই সহজ ক্যাচ দিলেন। কিন্তু নিজের বলে সেই ক্যাচ হাত জমাতে পারলেন না অ্যান্ডারসন। হয়ত হাত কেঁপে উঠেছিলো তার। হয়ত টেস্টে আরও কয়েকটি বল করার বাকি ছিলো তার। অ্যাটকিনসন তার পরের ওভারেও উইকেট নেননি, অ্যান্ডারসন আরও এক ওভার পেয়েও শেষ উইকেট নিতে পারেননি। শেষ উইকেট শেষ পর্যন্ত অ্যাটকিনসনেরই পকেটে গেল। খুব উইকেট নেওয়ার মতন ডেলিভারি ছিলো এমন না, পুল করে টেল এন্ডার সিলস বাউন্ডারি লাইনে ধরা দিয়ে রসভঙ্গ করে দিলেন। গোটা ইংল্যান্ড দল, লর্ডসের ভরপুর গ্যালারি চাইছিল শেষ উইকেটটা অ্যান্ডারসনের খাতাতেই যাক। হলো না, জীবনের সব কিছু আসলে খাপে খাপে মেলে না। তবে জীবনের শেষ টেস্টে জেমস মাইকেল অ্যান্ডারসন দারুণ বলই করেছেন, রান বের করতে দেননি ব্যাটারদের। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৪ উইকেট। ২০০৩ সাল থেকে টানা ২১ বছর টেস্ট খেলেছেন, টি-টোয়েন্টির চড়া লোভনীয় সময়েও তিনি কেবল টেস্টই খেলে গেছেন, বছরের পর বছর উইকেট নিয়ে গেছেন। এখনো ভালো গতিতেই বল করেন, বিষাক্ত স্যুয়িং আছে। চাইলে হয়তো আরও খেলে যাওয়া সম্ভব ছিলো। তবে জীবনের নিয়মে থামতে হয়। ১৮৮ টেস্টে ৭০৪ উইকেট! স্রেফ টেস্ট ক্রিকেটেই বল করেছেন ৪০ হাজার ৩৭টি! সাদা পোশাকে তিনি কত কিলোমিটার ছুটেছেন ভেবে দেখুন! সাহস নিয়েই বলে দেওয়া যায় বর্তমান বাস্তবতায় আর কোন পেসারের পক্ষে এই রেকর্ড ভাঙা সম্ভব হবে না। ২০০৩ সালে অ্যান্ডারসনের যখন টেস্ট অভিষেক আমরা তখন সদ্য স্কুল পেরিয়ে কলেজে। আমাদের জীবনেরও কতগুলো সময় পেরিয়ে গেল। অ্যান্ডারসন এখনো টেস্ট খেলছেন এটা আসলে নিজেদের সময়কে থামিয়ে রাখার মতন মনে হতো। বলতে ভালো লাগত, "কী আর সময় গিয়েছে, অ্যান্ডারসন তো এখনো টেস্ট খেলছেন।" অ্যান্ডারসনকে বিদায় জানাতে পুরো টেস্ট ক্রিকেটেরই একবার মাথা নুয়ানো উচিত। অ্যান্ডারসনের ক্যারিয়ারের মতন টেস্টের এমন বিজ্ঞাপন আর হয় না। Sports Courtyard

Comments