বাংলাদেশের ক্রিকেটে চান্ডিকা হাথুরুসিংহের স্বেচ্ছাচারিতা নতুন কিছু নয়। প্রথম মেয়াদে বাংলাদেশের কোচ থাকাকালীন...

Published from Blogger Prime Android App বাংলাদেশের ক্রিকেটে চান্ডিকা হাথুরুসিংহের স্বেচ্ছাচারিতা নতুন কিছু নয়। প্রথম মেয়াদে বাংলাদেশের কোচ থাকাকালীন একাধিক ক্রিকেটারের সঙ্গে এই লঙ্কান কোচের দ্বন্দ্বের কথা ছিল সবার মুখে মুখে। এই কোচ চলে যাওয়ার পর অনেক কিছুই প্রকাশ্যে এসেছিল।

দ্বিতীয় মেয়াদে বাংলাদেশের দায়িত্ব নেয়ার পর অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন হাথুরসিংহে অনেকটাই বদলে গেছেন। তবে আদতে তেমনটা হয়নি। কোচের সঙ্গে মান অভিমান করে অবসরের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তামিম ইকবালের মতো দেশসেরা ওপেনার।


এবার লঙ্কান এই কোচকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের এক সময়ের ওপেনার শামসুর রহমান শুভ। ক্রিকফ্রেঞ্জির সঙ্গে আলাপচারিচায় তিনি জানিয়েছেন, মুশফিক কথা না শোনায় একবার ব্যাটে লাথি মেরেছিলেন হাথুরুসিংহে। শাসিয়েছিলেন তাকেও।

সেই ম্যাচের দৃশ্যপট বর্ণনা করে শুভ বলেছেন, 'কোচ আমাকে বলেছিল নাসিরকে সরিয়ে একজন পেসারকে বোলিংয়ে আনতে। আমি বলার পর মুশফিক (তৎকালীন অধিনায়ক) খুব রাগান্বিত হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। আমি চলে এসেছিলাম। কোচ আমাকে বলেছে 'তুমি বলেছো?' আমি বলেছি, 'হ্যা বলেছি।' কোচ ড্রেসিং রুমের ভেতরে ছিল। আমি মাঠের বাহিরে। একটু পর দেখি ধুম করে একটি আওয়াজ। তাকিয়ে দেখি আমাদের ক্যাচিং ব্যাটে লাথি মেরেছে। ক্যাচিং ব্যাটের আওয়াজ হচ্ছে।'

ডানহাতি এই ব্যাটার আরও বলেন, 'তারপর আবারও সে আমাকে ডাবল এবং বলল 'তুমি কী ওকে বলেছো?' আমি বলেছি 'হ্যা।' কোচ বলল 'তাহলে শুনল না কেন?' আমি বলেছি 'তুমি কেন বলতে যাবে ও জানেই কী করতে হবে।' তখন আমি চলে এসেছি। একজন কোচের এমনটা করা কোনোভাবেই উচিত না। ও যেভাবে ডমিনেট করে এভাবে কখনই ভালো কিছু হবে না।'


সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল বা মুশফিকের মতো ক্রিকেটারদের মাঠের বাইরে থেকে বলে দেয়ার কিছু নেই বলেই মনে করেন শুভ। তার ধারণা বিস্তর অভিজ্ঞতা থাকার কারণে এই ক্রিকেটাররা জানেন মাঠে কোন মুহূর্তে কী করতে হবে। তাই তাদের মাঠের বাইরে থেকে আদেশ না দেয়াই ভালো।

শুভ বলেন, 'মুশফিক, তামিম বা সাকিবকে বলার কিছু নাই তারা যখন মাঠে থাকবে। কারণ তারা এত বছরের অভিজ্ঞ মাঠের বাইরে থেকে তাদের কিছু একটা বলবেন তারা শুনবে জিনিসটা এমন না। ওরা মাঠে থাকলে নিজেরাই জানে কী করতে হবে।'



মুশফিক ও শুভ এক সঙ্গেই খেলা শুরু করেছিলেন। দুজনের বন্ধুত্বও দুই যুগের বেশি সময় ধরে। তার ধারণা মাঠের বাইরে থেকে কোনো আদেশ উপদেশ দেয়া মোটেই পছন্দ করেন না মুশফিক। তাই তাকে তার মতোই থাকতে দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শুভ।

'আমি তো মুশফিককে চিনি। ২৪ বছর ধরে মুশফিকের সঙ্গে খেলেছি। ওকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। আমি জানি ও জিনিসটা নেবে না। কারণ ও এসব পছন্দই করে না। ওর কথা হচ্ছে তুমি খেলা শেষে তুমি আমাকে বলো যে এই জিনিসটা করতে পারো। এই জিনিসটা না করলেও হত। এটা ও পছন্দ করে কিন্তু খেলার মধ্যে ওকে কিছু বলবেন সেটা ও পছন্দ করে না।'

Comments

Popular posts from this blog

আপনাদের মতামত -০৬, হাসিনুল কবির রিফাত

১৫ জুলাইয়ের কালরাত্রিতে কী হয়েছিল জাহাঙ্গীরনগরের!